1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ায় গবেষণাভিত্তিক সমাধানে জোর মেয়রের

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 21-12-2025 ইং
  • 27462 বার পঠিত
ad728

ভুল রোগ নির্ণয় ও অপর্যাপ্ত রিপোর্টিংয়ের কারণে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার প্রকৃত সংক্রমণচিত্র অনেকাংশেই আড়ালে থেকে যাচ্ছে। এতে এসব মশাবাহিত রোগের প্রকৃত ঝুঁকি নিরূপণ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কৌশল গ্রহণে বড় বাধা তৈরি হচ্ছে— এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক বিস্তৃত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়া এখন আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। মশার প্রজননস্থল, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরের অবকাঠামো ও মানুষের আচরণ বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ না করলে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কখনোই টেকসই হবে না। ভুল রোগ নির্ণয় ও রিপোর্টিং ঘাটতির কারণে প্রকৃত রোগভার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। এতে নীতিনির্ধারণ ও পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’

গবেষণা প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মশার প্রজননস্থল, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরের অবকাঠামো ও মানুষের আচরণ বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ না করলে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কখনোই টেকসই হবে না।’

চসিক মেয়র আরও বলেন, ‘গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। গবেষক, চিকিৎসক ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।’

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. আদনান মান্নান বলেন, ‘ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে আমরা একাধিক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মিউটেশন শনাক্ত করেছি, যা এই অঞ্চলে রোগের বিস্তার ও তীব্রতার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এখন কেবল চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্যা নয়; এটি একটি সমন্বিত জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ। গবেষণাভিত্তিক তথ্য ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এসপেরিয়া সবসময় বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও জনস্বার্থে কার্যকর উদ্যোগের পাশে রয়েছে।’

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসকরা জানান, শুধুমাত্র ডেঙ্গুকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ কৌশল দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। চিকুনগুনিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে ভুল রোগ নির্ণয়, সীমিত পরীক্ষার সুযোগ এবং অনেক রোগী রিপোর্টিংয়ের বাইরে থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির ব্যথা, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা অজানাই থেকে যাচ্ছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, চিকুনগুনিয়া এখন দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে এবং ডেঙ্গু ও জিকার সঙ্গে একযোগে সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। গবেষকদের মতে, শুধু ডেঙ্গুকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ কৌশল দিয়ে বর্তমান বাস্তবতা মোকাবিলা করা যাবে না। এজন্য রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, রিপোর্টিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সমন্বিত রোগ নজরদারি জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ও প্রিন্সিপাল ডা. জসিম উদ্দিন, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ সাত্তার, হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইবরাহিম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. একরাম হোসাইন অংশগ্রহণ করেন।


ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728