নগরের জামালখানে হয়ে গেল সপ্তম বই বিনিময় উৎসব। এতে সৃজন ও মননশীল ২৫ হাজার বই বিনিময় হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের অভিনব এ উৎসবে একজন পাঠক তার পঠিত বইটি রেখে অন্য বই বিনিময় করে নিয়ে যেতে পারেন বিনামূল্যে। এবারের বই বিনিময় উৎসবটি চট্টগ্রাম শহর ছাপিয়েও গ্রামাঞ্চলের পাঠকদের সমাগমে পূর্ণ ছিল। দোহাজারী, রাউজান, পটিয়া, হাটহাজারী, বোয়ালখালীর পাঠকও এসেছেন বই বিনিময় করতে।
'বই নয়, জ্ঞানের বিনিময়' স্লোগানে উৎসবে ছিল 'প্রায়োরিটি বাংলাদেশ' নামে চিত্র প্রদর্শনী যেখানে স্থান পায় বাংলাদেশের সাহিত্য, সিনেমা, লোকগান, ইতিহাস, চট্টগ্রাম, জাতিবৈচিত্র্য ও অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন স্থিরচিত্র। উৎসবে কথাসাহিত্য, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ, হুমায়ূন-ছফা, কবিতা, ইতিহাস, রাজনীতি ও আত্মজীবনী, ক্যারিয়ার ও বিজ্ঞান, একাডেমিকসহ ১১টি স্টলে বই বিনিময় করা হয়। সর্বাধিক বই বিনিময় হয় কথাসাহিত্য, একাডেমিক এবং হুমায়ূন আহমেদের স্টলে।
চুয়েটের শিক্ষার্থী মেহেদি বই বিনিময় করতে এসে জানান প্রতিবারই তিনি এই বই বিনিময় উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন৷ এবারও তার পঠিত বইগুলো নিয়ে অপেক্ষা করে ছিলেন কখন বই বিনিময় উৎসবের ডাক আসবে আর তিনি তার পছন্দের বইটি বিনিময় করে নেবেন।
তিনি ‘সেই সময়’ বিনিময় করে নেন ‘সেই রাতে পূর্ণিমা ছিলো’ বইটি।
প্রদর্শনী দেখতে ভিড় জমায় নানাবয়সী বইপ্রেমীরা। উৎসবের সমন্বয়ক ও ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান সাগর বলেন, আমরা আজ থেকে ৬ বছর আগে পাঠক তৈরির মহান উদ্দেশ্যে যে বই বিনিময় উৎসব শুরু করেছিলাম সেটা আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক জীবনে বৈচিত্র্য ঘটিয়েছে।
বইমেলার মতো বই বিনিময় উৎসবের জন্যও পাঠক এখন অপেক্ষা করে থাকেন। বিশেষ করে যারা বই কিনতে চান কিন্তু পারেন না অর্থাভাবে তাদের জন্য বই বিনিময় উৎসব বই পড়া অব্যাহত রাখতে সাহায্য করছে। বই বিনিময় উৎসবে প্রতিবছর হাজার হাজার পাঠকের সমাবেশ ঘটে। এই মানুষদের 'বাংলাদেশ' প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা নিয়েই এবারের চিত্র প্রদর্শনীটি। এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সাহিত্য, সিনেমা, উৎসব, জাতিবৈচিত্র্য এবং সংগ্রামের ইতিহাস এবং তার যে স্বাতন্ত্র্য বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই স্বাতন্ত্র্যবোধ জাগিয়ে রাখতেই উদ্বুদ্ধ করবে এই চিত্র প্রদর্শনী।
৭ বার ধারাবাহিকভাবে একটি উৎসব আয়োজন করে আসাটা চ্যালেঞ্জের। যারা নানা সময়ে আমাদের পাশে থেকেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় বই বিনিময় উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠান৷ প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস। তিনি বলেন, প্রতিবার এই বই বিনিময় উৎসব তার নিজের কলেবরকে বড় করছে৷এত সীমাবদ্ধতার ভেতরেও সাহিত্যের প্রতি তাদের এই মুগ্ধতা আমাদের উচ্ছ্বসিত করে। চট্টগ্রামের অসংখ্য ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থান আছে। এই বই বিনিময় উৎসব চট্টগ্রামের তেমনই এক নতুন ঐতিহ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্যকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক সামসুদ্দিন ইলিয়াস। উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আল জোবায়েদ, বই বিনিময় উৎসবের আয়োজক সদস্য আকিবুল ইসলাম জিশাদ, কাজী সদরুল্লাহ রাকিব, অহনা বড়ুয়া, সানজিদা রহমান, তূর্ণ পাল প্রমুখ। এবার বই বিনিময় উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলো সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও সিটি ব্যাংক।
উদ্বোধনের মাধ্যমে বই বিনিময় উৎসব ও প্রদর্শনী শুরু হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আনাগোনা বাড়তে থাকে পাঠকদের৷ সাথে বাড়তে থাকে বই বিনিময়ের সংখ্যাও।
বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের আগমনে জামালখান পরিণত হয় পাঠকদের মিলনমেলায়। বিকালে প্রদর্শনীতে আসেন সাহিত্যিক জিএইচ হাবীব।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

