নির্বাচনের মাঠে এবার প্রচারণার ভাষা বদলে গেছে। পোস্টার–ব্যানারের পাশাপাশি গানে, স্লোগানে আর থিম সংয়ে মুখর হয়ে উঠেছে রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রতিটি দলই নিজেদের মতো করে সুর, শব্দ ও স্লোগানের রাজনীতিতে নেমেছে। প্রচলিত বক্তৃতানির্ভর প্রচারণার বাইরে গিয়ে গান ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে আবেগ তৈরি করাই এবারের মূল কৌশল হয়ে উঠছে।
বড় দল ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলো সবাই দলীয় স্লোগানের পাশাপাশি আলাদা থিম সং তৈরি করছে। এসব থিম সংয়ে উন্নয়ন, পরিবর্তন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার কিংবা দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের স্বপ্ন তুলে ধরা হচ্ছে। মাইকিং, পথসভা, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা এমনকি ঘরে ঘরে প্রচারণাতেও এসব গান বাজানো হচ্ছে। অনেক এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একই স্লোগান ও গান বারবার শোনা যাচ্ছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রচারণা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপে দলীয় থিম সং, স্লোগানভিত্তিক ভিডিও ও রিল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তরুণদের অংশগ্রহণ এখানে সবচেয়ে বেশি। কেউ দলীয় গান দিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন। কেউ স্লোগান ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মক বা সমর্থনমূলক কনটেন্ট তৈরি করছেন। ফলে প্রচারণা শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ না থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ভোটের আবহ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধান থিম ও স্লোগান হিসেবে বেছে নিয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্লাসিক লাইন ‘ভোট দিবেন কিসে? ধানের শীষে’ এবং গানের লিরিক্সে ফুটে উঠেছে ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ; ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ’। একাধিক জনপ্রিয় নির্বাচনী স্লোগানকে একত্রিত করে তৈরি এই থিম সং ইউটিউব, ফেসবুকসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে জনসভা ও মিছিলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে। প্রচারণায় ঐতিহ্যবাহী মাইকিং, পোস্টারের পাশাপাশি এই গানটি তরুণ ভোটারদের আকর্ষণ করছে এবং দলের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তাকে জোরালো করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণায় মূল স্লোগান হিসেবে বেছে নিয়েছে ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’। দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা জনসভা, মিছিল, কর্মী সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই স্লোগানকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাছাড়া ‘গণভোটে হ্যাঁ’ ও ‘ভোট ফর দাঁড়িপাল্লা’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন দলটির কর্মীরা। যা দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে মিলিয়ে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিচ্ছে।দলটির একাধিক থিম সং ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গানগুলোতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নৌকা ও ধানের শীষের মতো পুরনো প্রতীকের প্রত্যাখ্যান, দাঁড়িপাল্লার ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে উত্থান এবং দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-নৈতিক পুনর্গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

