ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার চার দিন পর সন্দ্বীপ থেকে ৩৭ রোহিঙ্গাকে আটক করছে আইন-শৃঙ্খলা। শুক্রবার রাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে নৌবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
জানা যায়, দালালদের মাধ্যমে তারা চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর তীরে নতুন ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। আটক রোহিঙ্গাদের বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সন্তোষপুরের বটগাছতলা ইলিশঘাট এলাকায় একদল রোহিঙ্গাকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ২৩ জন শিশু-কিশোর রয়েছে।
আটক রোহিঙ্গারা জানান, জনপ্রতি পাচ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি দালাল চক্র তাদের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে পৌঁছে দেওয়ার কথা।
সে উদ্দেশে গত মঙ্গলবার তারা ভাসানচরের আশ্রয়শিবির থেকে পালিয়ে একটি প্যারাবনে লুকিয়ে ছিলেন। সেখানে এক দিন থাকার পর বুধবার রাতে তাদের সীতাকুণ্ডে নেওয়ার জন্য একটি ছোট নৌকায় তোলা হয়। কিন্তু যাত্রা শুরুর পর নৌকাটি তীরের কাছে ডুবে গেলে পরে তাদের আরেকটি নৌযানে তোলা হয়। কিন্তু সীতাকুণ্ড উপকূলে পৌঁছানোর আগেই এ নৌযানটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।
ফলে নৌকাটি তিন দিন ধরে সাগরে ভাসতে থাকে। পরে চট্টগ্রামের নাম বলে তাদের সন্দ্বীপের উত্তরে কূলে নামিয়ে দেওয়া হয়। তারা বনরুটি আর পানি খেয়ে থেকেছেন বলে জানান তারা।
আটক রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, এর আগে দালাল চক্রটি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়।
আটক এক রোহিঙ্গা নারী জোহরা বেগম (৪০) বলেন, ‘নৌযানে থাকা দালাল চক্রের এক সদস্য তার আট আনা ওজনের কানের দুল কেড়ে নেয়।
নৌযানে মাঝির কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং চারজনের কাছে ছুরি ছিল বলেও তিনি জানান।’
আরেক রোহিঙ্গা জানান, 'উখিয়া ক্যাম্পে তাদের স্বজন রয়েছে, কিছুদিন আগে পর পর তার মা- বাবা মারা গেছেন কিন্তু দেখতে যাবার অনুমতি পাননি তাই পালিয়ে যেতে চাইছিলেন।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, ‘আটক রোহিঙ্গাদের রাতের জন্য সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

