1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ৭ দিনে সড়কে ঝরলো ১১ প্রাণ

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 02-06-2026 ইং
  • 124 বার পঠিত
ad728

সড়কে বেড়েছে মৃত্যুর মিছিল। গত সাত দিনে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১১ জনের। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ।

গত ২৮ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামের পটিয়া, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী ও কর্ণফুলী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের যাতায়াত এবং ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপের মধ্যেই প্রাণহানির এসব ঘটনা ঘটে। তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মে ঈদের দিন রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার ভেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ৩০ জন।

৩১ মে রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় বাস, ডাম্প ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশার চতুর্মুখী সংঘর্ষে এক নারী পথচারী নিহত হন। ১ জুন ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীতে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পাঁচজন। ফটিকছড়ির আমতল এলাকায় বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হন। একই উপজেলার লেলাং এলাকায় বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যান আরও একজন। অন্যদিকে বাঁশখালীর মনছুরিয়া বাজার এলাকায় মাছবোঝাই পিকআপ ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে কর্ণফুলীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় দ্রুতগতির একটি পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হন।

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা এবং মহাসড়কে ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাঁরা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বছর তিনেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করা মো. জাহেদ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, একটি দুর্ঘটনা আমার পুরো জীবন বদলে দিয়েছে। আগে পরিবার চালানোর জন্য নিয়মিত কাজ করতাম, এখন অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরা করতে পারি না। যারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান, তাদের কাছে আমার অনুরোধ এক মুহূর্তের অসতর্কতা একটি পরিবারকে সারা জীবনের কষ্টে ফেলে দিতে পারে।

দুর্ঘটনায় আহত কাউছার আলমের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি জানান, দুর্ঘটনার আগে আমি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতাম। এখন প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হয়। শুধু আমি নই, আমার পুরো পরিবার এর ভোগান্তি বহন করছে। সড়কে আইন মেনে চলা এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণই অনেক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে পারে।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ সভাপতি ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু চালকের ভুল বা গাড়ির ফিটনেস সমস্যার কারণে ঘটে না। এর পেছনে রয়েছে সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার ঘাটতি, দুর্বল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অপর্যাপ্ত আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতার অভাব। দুর্ঘটনা কমাতে হলে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একজন চালকের হাতে অনেক যাত্রীর জীবন নির্ভর করে। তাই চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিরাপদ ড্রাইভিং দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। শুধু হেলমেট ব্যবহার বা আইন প্রণয়ন করলেই দুর্ঘটনা কমবে না; কার্যকর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728