1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

অভিযোগ শুনেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন জেলা প্রশাসক

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 03-06-2026 ইং
  • 94 বার পঠিত
ad728

দুবাই থেকে এক প্রবাসী জানালেন, দেশে থাকা তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আবুধাবি থেকে আরেকজন অভিযোগ করলেন জমিজমা নিয়ে হামলা ও হয়রানির কথা।

কাতার প্রবাসী বললেন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা। একই দিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ তুলে ধরলেন চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও জীবিকার সংকটের কথা।

দেশ ও প্রবাস-দুই প্রান্তের মানুষের এসব অভিযোগ ও আবেদন সরাসরি শুনলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। দ্রুত সময়ে এসব অভিযোগের সমাধানও দিচ্ছেন তিনি।

বুধবার (৩ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত দুই পৃথক গণশুনানিতে এমন চিত্র দেখা যায়। প্রথম ‘প্রবাসী গণশুনানি’ এবং পরে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত গণশুনানি।

প্রবাসী গণশুনানিতে চারজন প্রবাসী জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন। এছাড়া দেশে অবস্থানরত দুজন প্রবাসী সশরীরে অংশ নিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

দুবাইপ্রবাসী আবুল খালেক অভিযোগ করেন, পটিয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছিনতাই, নির্যাতন ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আদালতে মামলা করেছেন। আবুধাবিপ্রবাসী রাজু মুহুরী বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসাও নিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও সালিশ বৈঠকের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ হারুন বোয়ালখালীতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেন। আবুধাবিপ্রবাসী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হাটহাজারীতে তাঁর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, নির্মাণকাজে বাধা এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে।

পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে আবুধাবিপ্রবাসী মোরশেদ আলম বিদেশে উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, বিদেশের আদালত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশে চলে আসায় তিনি এখনো টাকা ফেরত পাননি। কাতারপ্রবাসী নুরুল হাকিম তালেকও তাঁর এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

প্রতিটি অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযোগগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রবাসী গণশুনানি শেষে শুরু হয় সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে গণশুনানি। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর এলাকা থেকে আসা ২৫ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকট, চিকিৎসাসহ নানা সমস্যা তুলে ধরেন।

গণশুনানিতে উঠে আসে সংগ্রামমুখর জীবনের নানা গল্প। 

জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার চেইনম্যান মো. ফোরকানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। স্বামীর মৃত্যু ও চিকিৎসা ব্যয় তাঁদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728