1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

জনগণের আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে জন প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে: ডিসি

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 09-06-2026 ইং
  • 29 বার পঠিত
ad728

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেই সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং জন-প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। জনগণ যাতে সহজে, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পায়, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম দায়িত্ব।

গ্রাম আদালত হতে পারে সেই আস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) নগরের পিটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা বছরের পর বছর সভা-সেমিনারে অংশ নিই, নানা পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করি। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—বাস্তবে আমরা কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছি? জনগণ কি আমাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে?

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধও থাকতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে প্রত্যেকের উচিত নিজের কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল খুঁজি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি কি না, সেই আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে কমে গেছে।

অথচ দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদেরই ওপর ন্যস্ত। অন্য কেউ এসে এই দায়িত্ব পালন করবে না।

তিনি বলেন, প্রতি বুধবার গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা নিয়ে আসেন। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, অনেক সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা সম্ভব ছিল। যদি আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব আরও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতাম, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যেত।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প’-এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন। এতে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ১৯১টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসার পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক ও সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা শূন্য বা অত্যন্ত কম, বিশেষ করে মীরসরাইয়ের কয়েকটি ইউনিয়নের উদাহরণ তুলে ধরে সেখানে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আস্থা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলার নথি, রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিজ দায়িত্বে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728