1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

ভারতকে হারিয়ে ২২ বছরের আক্ষেপ ঘুচল বাংলাদেশের

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 19-11-2025 ইং
  • 31519 বার পঠিত
ad728

২২ বছরের অপেক্ষা, ২২ বছরের হাহাকারের পর আজ রাতে ঢাকার আকাশ উল্লাসে ভরে উঠেছে। জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ গ্যালারি যেন একসঙ্গে নিঃশ্বাস আটকে দেখল দেশের ফুটবলের নবজাগরণ। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে এক তরুণ, শেখ মোরসালিন। তার ডান পায়ের ঝলকেই ভারত নামের অবসাদমাখা অধ্যায়ের ইতি টেনে দিল বাংলাদেশ। ঠিক সেখানেই শুরু হলো নতুন স্বপ্নের যাত্রা। ম্যাচের ১১তম মিনিটে মোরসালিন যখন গোলটি করলেন, সারা দেশের বুকজুড়ে জমে থাকা ২২ বছরের আক্ষেপের অপেক্ষা যেন আনন্দের জোয়ারে রূপ নিল। সেই গোল যেন ঘোষণা দিল, এই বাংলাদেশ লড়তে জানে, এই বাংলাদেশ জিততেও জানে।

এএফসি বাছাইপর্বের ম্যাচে আজ ভারতকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাংলাদেশ।

ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে আধিপত্য ধরে রেখে প্রথমার্ধেই দেখিয়েছিল ঘরের মাঠে দর্শকদের নিরাশ না করার দৃঢ়তা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে রাকিব হোসেনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ-পায়ের শট ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সিন্ধু হাতের তালুবন্দি করলেও সেটাই দুই দলের প্রথম আক্রমণ ছিল।

ম্যাচের ১১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকেই জন্ম নেয় ম্যাচের একমাত্র গোল। আক্রমণের শুরুটা করেছিলেন মোরসালিন নিজেই। তার পাস থেকে বল পেয়ে রাকিব মাঝমাঠ থেকে বল টেনে দারুণ গতিতে এগিয়ে যান এবং বক্সে ফাঁকা থাকা মোরসালিনকে নিখুঁত ক্রস দেন। গোলরক্ষককে একা পেয়ে শান্ত মাথায় বল জালে জড়ান বাংলাদেশের এই তরুণ তারকা। বাংলাদেশের জার্সিতে এটি ছিল তার সপ্তম গোল, নিঃসন্দেহে সবচেয়ে মূল্যবান গোলের একটি।

২২ মিনিটে রাকিবের আরেকটি ক্রস সহজে ধরে ফেলেন সিন্ধু। এই সময়টায় রক্ষণভাগে অসাধারণ উপস্থিতি দেখিয়েছেন হামজা চৌধুরী। তার ধারালো ট্যাকল ও আত্মবিশ্বাসী খেলায় বারবার উজ্জীবিত হয়েছে গ্যালারি।

২৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্সের অন্যতম স্তম্ভ তারিক কাজী। তার বদলি হিসেবে নামেন শাকিল আহাদ তপু। তিন মিনিট পর বাংলাদেশের রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে যান লালিয়ানজুয়ালা চাংতে। গোলরক্ষক মিতুল মারমা পোস্ট ছাড়ায় ফাঁকা গোলপোস্টে নেন দূরপাল্লার শট, কিন্তু ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হন হামজা চৌধুরী, হেড করে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়ে দেন দলকে। কয়েক মিনিট পর আবারও রক্ষণের দৃঢ়তার পরিচয় দেন তিনি।

৩৪ মিনিটে তপু বর্মনের ট্যাকলকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে; জামাল ভূইয়ার আগের দিন বলা ভবিষ্যদ্বাণী ‘অনেক কার্ড হবে, অনেক কথা হবে’ সত্যি হয়ে দেখা দেয়। তপু ও ভারতের নারাভি নিখিল দেখেন হলুদ কার্ড।

৩৮ মিনিটে গোললাইন থেকে রাকিব হোসেনের সাহসী ক্লিয়ারেন্সে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ৪৪ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ফ্রি কিক ডিফেন্সে লাগলে বল আসে হামজার কাছে, বুক দিয়ে বল নামিয়ে জোরালো শটে চেষ্টা করেছিলেন তিনি, কিন্তু অল্পের জন্য মিস করেন—ভারত রক্ষা পায় আরেক গোল হজম করা থেকে।

গোল হজমের পর নিজেদের ফিরে পেতে ভারত আক্রমণের পর আক্রমণ সাজালেও দৃঢ় ডিফেন্সের সামনে ব্যর্থই থাকল তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আরও আক্রমণাত্মক হয় ভারত। ৫১ মিনিটে বদলি মহেশ সিংয়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া, ৬৪ ও ৭০ মিনিটে সানানের দুটি শট সবই ঠান্ডা মাথায় সামলান গোলরক্ষক মিতুল মারমা।


ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728