চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বুইস্যা বাহিনীর প্রধান শহীদুল ইসলাম প্রকাশ বুইস্যা (২৮)-কে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম।
গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০ টায় চান্দগাঁও থানাধীন ফিনলে সাউথ সিটি এলাকার দিগন্ত খাজা টাওয়ার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বুইস্যা ভোলা জেলার দৌলতখান থানার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
র্যাব জানায়, গত ২১ জুলাই চান্দগাঁও থানাধীন কাঁচাবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টেম্পু বাহিনী ও বুইস্যা বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে র্যাব বুইস্যা গ্রুপের ১১ সদস্যকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করলেও মূলহোতা বুইস্যা তখন পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর বুইস্যার অন্যতম সহযোগী মুন্না পাঁচলাইশ থানাধীন বাদুরতলা এলাকায় একটি গ্যারেজের সামনে চাঁদার দাবিতে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। এসব ঘটনার পর থেকেই র্যাব বুইস্যাকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
উক্ত বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্কোয়াড্রান লিডার মোঃ মিজানুর রহমান, লিগ্যাল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, র্যাব-৭, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
তিনি জানান, অভিযানের সময় বুইস্যার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। বুইস্যার বাড়ি ভোলা হলেও বর্তমানে সে পাঁচলাইশ থানাধীন পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় বসবাস করছিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় বুইস্যা ও টেম্পু গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গোলাগুলি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক কারবারে জড়িত। এই দুই গ্রুপের প্রধান হলো শহীদুল ইসলাম প্রকাশ বুইস্যা এবং ইসমাইল হোসেন প্রকাশ টেম্পু। এলাকাবাসীর কাছে এই দুই গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম। উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইসমাইল হোসেন টেম্পুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বুইস্যা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, সে চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় অস্ত্র ব্যবসা, ইয়াবা ও মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাং ব্যবহার করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করত। চাঁদাবাজিতে কেউ বাধা দিলে তাকে তুলে নিয়ে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার সংলগ্ন দিগন্ত খাজা টাওয়ার এলাকায় গড়ে তোলা নিজস্ব টর্চার সেলে নির্যাতন করত। এছাড়া তার একটি গোপন নেটওয়ার্ক ছিল, যার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির আগাম তথ্য সে পেয়ে যেত।
র্যাব জানায়, বুইস্যার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি, নাশকতা ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৪২টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-৭ জানায়, গ্রেপ্তার সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..