1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

তাপপ্রবাহে চট্টগ্রামে জনজীবনে অস্বস্তি

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 04-06-2026 ইং
  • 79 বার পঠিত
ad728

প্রখর রোদ ও অস্বাভাবিক গরমে চট্টগ্রামে নাভিশ্বাস অবস্থা। সহসা তাপপ্রবাহ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। উল্টো ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। এই গরমে বেড়েছে হিট স্ট্রোকসহ নানা পানিবাহিত রোগ।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই তাপমাত্রা অস্বাভাবিক নয়। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই গরম কমবে না। আগামী দুই-তিন দিনও একই অবস্থা থাকতে পারে।’ তবে এই অস্বাভাবিক গরমের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ‘এল নিনো’কে দায়ী করছেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই গরমের পেছনে অন্যতম কারণ এল নিনোর প্রভাব। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না থাকায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমাদের মডেল অনুযায়ী, এল নিনো বর্তমানে সক্রিয়। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়ে। তবে এল নিনোর কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও গরমের অনুভব অনেক বেশি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪-১৫ জুনের দিকে দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হতে পারে। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে গরমের তীব্রতা কমবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।’

জনজীবনে অস্বস্তি : তীব্র রোদ ও গরমে বিপাকে পড়ে গেছেন শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ। জেলার বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রহিম। ৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরের রাস্তায় রিকশা চালান। কিন্তু এখন প্রখর রোদ ও অস্বাভাবিক গরমের কারণে বেশি সময় ধরে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘আগে দুপুরেও রিকশা চালাতাম। এখন সকাল ১০টার পর রোদে বের হওয়া যাচ্ছে না। ২-৩ ঘণ্টা চালালেই শরীর কুলাচ্ছে না, বাসায় ফিরে যেতে হচ্ছে।’

বেসরকারি চাকরিজীবী ফিরোজ শাহ বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে যেমন রাতে ঘুম হয় না, তেমন অফিসে গিয়েও কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। এতে আমার দৈনন্দিন জীবন প্রায় উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছে।’

একই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া মিথুন বলেন, ‘রাতে ঘুমানোর সময় ফ্যান ঘুরে কিন্তু বাতাস গায়ে লাগে না। শরীর সারক্ষণই ঘামে ভিজে আর পুড়তে থাকে। মাঝেমধ্যে এমন মাথাব্যথা শুরু হয় যে বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না। ঘুমের অভাবে চোখ জ্বালাপোড়া করে, আর শরীরের ক্লান্তি তো আছেই।’

বাড়ছে হিট স্ট্রোক : প্রখর রোদ ও অস্বাভাবিক গরম যে শুধু জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি করেছে তা কিন্তু নয়, এর ফলে যেমন বাড়ছে হিট স্ট্রোক তেমন পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

হিট স্ট্রোকে থেমে গেল মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিমের জীবন : আমিমুল এহসান ফাহিম। ২৬ বছরের টগবগে এক তরুণ। অনার্স সম্পন্ন করেছেন আর্ন্তজাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ফার্মেসি ডিপার্টমেন্ট থেকে। মাস্টার্স ইউএসটিসি থেকে। গত মঙ্গলবার ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফেরার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। ব্যাগ গুছিয়ে শহরের পথে রওয়ানা হন। এমন সময় হঠাৎ শরীরে তীব্র অস্বস্তি। লোকজন ধরাধরি করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে, পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। থেমে যায় একটি জীবন। সাথে মৃত্যু ঘটে একবুক স্বপ্নের।

ফাহিমের গ্রামের বাড়ি নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে। তার বাবা স্থানীয় ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজিকাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলম সুমন  বলেন, ‘প্রথমত গরমে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি বাসা বাঁধে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সরাসরি হিট স্ট্রোক। এটা সাধারণত ডিহাইড্রেশন এবং বা পানিশূন্যতার কারণে হয়ে থাকে।


ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728