বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ের মসজিদে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন এক নেত্রী, যিনি বাংলাদেশকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করতেন। দেশের মানুষের দুঃখ কষ্ট, সংকট ও দুর্যোগে তিনি বারবার ঝুঁকি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ দরদ ছিল। ১৯৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ছিলেন মানবিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর বেগম খালেদা জিয়ার জনসমাবেশ হয়েছিল চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে। সেই সমাবেশে তিনি দল বা প্রার্থীর জন্য নয়, দেশ ও মানুষের অধিকারের কথা বলেছিলেন।
গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। ২০১২ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধস ও দুর্যোগ এবং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকটের সময়ও বেগম খালেদা জিয়া মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, চিকিৎসা ঝুঁকি ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা জেনেও তিনি নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটি কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, এটি মানবিক নেতৃত্ব। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি থাকা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া সবকিছুর মাঝেও তিনি দেশের চিকিৎসক ও দেশের মাটির ওপর আস্থা রেখেছেন। শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তার ভাবনায় ছিল দেশের মানুষ, আহত নির্যাতিতদের কল্যাণ।
দেশপ্রেম ইমানের অংশ, এই বিশ্বাসে তিনি আজীবন অবিচল ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ১৮ কোটি মানুষের নেত্রী। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি—তিনি যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
দোয়া মাহফিলে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বাদে মাগরিব বাটালি হিল রোডের পিডাব্লিউডি কলোনি বায়তুল মোয়াজ্জেম জামে মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এতে মেয়র বলেন, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বর্বর হামলায় চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত এবং বহু ছাত্র আহত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান, নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। ১৯৯৭ সালের হামজারবাগ ভূমিকম্পের পরও তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন। সে সময় মেডিকেলে প্রবেশের পথে তাঁর গাড়িবহরে বোমা হামলা, এমনকি তাঁকে লিফটে আটকে রাখার ঘটনা ঘটলেও তিনি তিন থেকে চার ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।
মেয়র বলেন, ২০০৮ সালে কারাবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তির পর তাঁকে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে অনুষ্ঠিত তাঁর মহাসমাবেশে তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে শুধু একটি কথা বলেছিলেন, ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে রামু ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও মন্দির পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দেন।
মেয়র বলেন, মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তিনি তিন বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকম্পে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন, এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ মানবিক বার্তা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। উপস্থিত সবাই সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস ও দরুদ শরিফ পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

