1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

টানা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত মিরসরাই

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 06-01-2026 ইং
  • 19293 বার পঠিত
ad728

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় টানা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে না। ভোর থেকে শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে পুরো উপজেলা জুড়ে শীতের প্রকোপ চরমভাবে অনুভূত হচ্ছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের আলো মিলছে না।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ভোর থেকে পুরো উপজেলা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে সামনের কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। হিমেল বাতাসে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।

রিকশাচালক, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা জানান, তীব্র ঠান্ডার কারণে সকালে কাজে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই কাজ পেলেও দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না, যা দৈনন্দিন আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বড়তাকিয়া বাজার এলাকার রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, ‘ভোরে বের হলে শরীর কাঁপে, হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। যাত্রীও কম, আয় অর্ধেকেরও কমে গেছে।’উত্তরবঙ্গ থেকে মিরসরাইয়ে কাজ করতে আসা দিনমজুর মো. আলমগীর জানান, ‘কাজ না করলে খাওয়াও জোটে না। কিন্তু এই শীতে কাজে দাঁড়ানোই কষ্ট। পরিবারে রুজি পাঠাতে পারি না, তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

 কৃষিখাতেও শীতের প্রভাব দেখা দিয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের চারা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা অভিযোগ করেন, সূর্যের আলো না থাকায় ক্ষেতের ফসল স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল বা শীতবস্ত্র বিতরণের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন মিরসরাইসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।


ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728