চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে চট্টগ্রাম দুদকের সহকারী পরিচালক সাইয়েদ আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১ দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. হামেদ রেজা ও মো. সবুজ হোসেন। দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের সময় গত ১৫ মাসে সিন্ডিকেট সভায় অবৈধভাবে ২৫০ নিয়োগের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এসেছি।
পাশাপাশি ফার্সি-ক্রিমিনলোজি ডিপার্টমেন্টে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা কারোর না কারোর আত্মীয় ছিলেন এমন অভিযোগ পেয়েছি।’ নথিপত্রের অসংগতির ব্যাপারে তিনি জানান, ‘নিয়োগের ক্ষেত্রে ফার্সি ডিপার্টমেন্টের প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের সুপারিশ ছিল না, কিন্তু তারা আইনকানুন দেখিয়েছেন প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের সুপারিশ ছাড়াও নিয়োগ কাজ সম্পন্ন করা হয়। আমরা শুধু নম্বরপত্র পাইনি, সেটা পেলে আমরা একটা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। এরপর অনিয়ম হয়েছে কিনা বিস্তারিত জানাতে পারব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুদক আমাদের কাছে নিয়োগ বিষয়ে যা চেয়েছে তা আমরা দিয়েছি। তবে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা সিলগালা থাকার কারণে মার্কের বিষয়ে উপাচার্য ক্যাম্পাসে এলে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য দেওয়া হবে। তিনি জানান, এই প্রশাসনের আমলে মোট নিয়োগ পেয়েছে ৩২১ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ৭৮, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী ৮৮, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ১৩৯ জন কর্মকর্তা ১৬ জন। নিয়োগের অনিয়মের জবাবে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা দায়িত্বে নেওয়ার পর অতিরিক্ত কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ন-স্বজনপ্রীতি হয়নি। যারা নিয়োগ পেয়েছে তারা নিজ যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতা গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন দায়িত্বে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রণয়ন করেন নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা। গত শুক্রবার ৯ জানুয়ারি ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মিডিয়াতে প্রচার হয়। তবে প্রশাসনের দাবি, মোট নিয়োগ হয়েছে ১১৬ জন। এতে প্রভাষক হয়েছেন উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা খান। এ ছাড়া ৫৬৪তম সিন্ডিকেটে নিয়োগ দেওয়া হয় ৩৮ শিক্ষককে। অর্থাৎ গত দুই সিন্ডিকেটে ৫৬ জনসহ এই প্রশাসনের আমলে মোট শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৭৮ জনকে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

