1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

এনসিটি ইজারা না দিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্কপের স্মারকলিপি

রিপোর্টারের নামঃ Shahjalal Rana
  • আপডেট টাইমঃ 11-06-2026 ইং
  • 47 বার পঠিত
ad728

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)সহ গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরকে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বুধবার (১০ জুন) এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে স্কপের নেতারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র।

দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে বন্দর পরিচালনার ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী এসকে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদ আলম, বিএফটিইউসির সাধারণ সম্পাদক কেএম শহিদুল্লাহ, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত এনসিটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক কনটেইনার টার্মিনাল।

দেশীয় শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টার্মিনালটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে এনসিটিতে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউ’স কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা টার্মিনালটির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ সাফল্য প্রমাণ করে যে দেশীয় সক্ষমতা দিয়েই আধুনিক ও দক্ষ বন্দর পরিচালনা সম্ভব।

চট্টগ্রাম বন্দর একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং এটি কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই-১) হিসেবে স্বীকৃত। বন্দর এলাকায় নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের স্থাপনা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। ফলে বন্দর পরিচালনার বিষয়টি কেবল বাণিজ্যিক নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্মারকলিপিতে স্কপ নেতারা দাবি জানান, এনসিটি, সিসিটি, জিসিবিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চলমান আলোচনা ও প্রক্রিয়া বাতিল, বন্দর পরিচালনায় দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। 

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হবে না—এ মর্মে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে শ্রমিক-কর্মচারী ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ad728

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728