পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নগরের মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। দুপুর গড়াতেই বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
অনেক মার্কেটেই রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। তবে উৎসবমুখর এই পরিবেশের মাঝেও আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে স্বল্প আয়ের মানুষের অনেকেই পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, চকবাজার ও জিইসি মোড় এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে পোশাকের দোকানগুলোতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের নতুন পোশাক দেখছেন ক্রেতারা। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই দরদাম করছেন, আবার কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পছন্দের পোশাক বেছে নিচ্ছেন।
রাতে মার্কেটগুলোর ভেতরে রঙিন আলো, নতুন পোশাকের সারি এবং ক্রেতা–বিক্রেতার কোলাহলে পুরো পরিবেশ যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও রয়েছে ব্যাপক ভিড়। স্বল্প দামের পোশাক ও জুতার খোঁজে অনেকেই ভিড় করছেন এসব দোকানে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের শওকত নামের এক পোশাক বিক্রেতা বলেন, 'রমজানের প্রথম দিকে ক্রেতা কম ছিল। নির্বাচনের লম্বা ছুটিতে সবার টাকা শেষ হয়ে যাওয়া ও মাসের শেষ থাকায় মার্কেটে মানুষ কম এসেছে। কিন্তু ঈদ যত কাছে আসছে, ততই বাজার জমে উঠছে। এখন দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কাস্টমার থাকে। এরপর মাঝে ইফতার টাইম পর্যন্ত একটু কম থাকে। আবার রাত সাতটার পর থেকে রাত দুইটা–তিনটা পর্যন্ত ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন।
হকার্স মার্কেটের দোকানি লিটন বলেন, 'শিশু থেকে যুবকদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনেক পরিবার একসঙ্গে এসে সবার জন্য পোশাক কিনে নিচ্ছেন।
সেন্ট্রাল প্লাজার দোকানি মাহিন বলেন, 'ক্রেতার চাপ এখনও আছে। কিন্তু শুরুতে একটু বেশি ছিলো। মহিলাদের কাপড় বলতে বিশেষ করে থ্রি পিসের কাপড় আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন ভিড় আছে টেইলারের দোকানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পরিবার শিশুদের হাত ধরে দোকান থেকে দোকানে ঘুরছেন। কেউ নতুন পাঞ্জাবি, কেউ শাড়ি, আবার কেউ জুতা বা প্রসাধনী কিনছেন। ছোট শিশুরা নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত। তবে উৎসবমুখর এই বাজারের মাঝেও অনেক স্বল্প আয়ের মানুষের মুখে দেখা গেছে হতাশা। বাজারে এসে পছন্দের পোশাক দেখলেও দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই শেষ পর্যন্ত না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় কাজ করা এক দিনমজুর বলেন, 'বাজারে অনেক সুন্দর কাপড় আছে, কিন্তু দাম অনেক বেশি। পরিবারের সবার জন্য কেনা সম্ভব না। চেষ্টা করছি অন্তত ছেলে-মেয়েদের জন্য কিছু কিনে দিতে।
একজন রিকশাচালক বলেন, 'সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তবুও ঈদ বলে কথা, বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু না কিছু কিনতেই হবে।
মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতে তুলনামূলক কম দামে পোশাক বিক্রি হওয়ায় সেখানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ সেখান থেকেই ঈদের কেনাকাটা সারছেন।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী স্বপন তালুকদার বলেন, 'ঈদের আগের শেষ কয়েকদিনে বাজার আরও জমে উঠবে। কারণ ১৭ মার্চ থেকে ছুটি শুরু হবে। মানুষ ভালোভাবে কেনাকাটা করে তারপর বাড়ি চলে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তাই শেষ দিকে প্রায় সব মার্কেটেই গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

